Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Class 12 Political Science Chapter 16 আঞ্চলিক আকাঙক্ষা ও সংঘাত

By Rabbi Masrur

Published On:

Class 12 Political Science Chapter 16 আঞ্চলিক আকাঙক্ষা ও সংঘাত

আপনি যদি Class 12 Political Science Chapter 16 আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষা ও সংঘাত (Bengali Medium)-এর সহজ ও নির্ভরযোগ্য প্রশ্নোত্তর খুঁজছেন, তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই অধ্যায়টি দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং AHSEC Higher Secondary Examination-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই অধ্যায়ে আপনি আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষার ধারণা, ভাষাভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্ন, জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যা, পাঞ্জাব সংকট, উত্তর-পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক আন্দোলন, বিচ্ছিন্নতাবাদ, স্বায়ত্তশাসনের দাবি, জাতীয় ঐক্য এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক সম্পর্কে সহজ ভাষায় জানতে পারবেন। এছাড়াও, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণ, তার প্রভাব এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা পাবেন।

এখানে দেওয়া Question Answer এবং Notes সহজ, পরিষ্কার এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব ভাষায় প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি উত্তর সর্বশেষ AHSEC পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে বিষয়টি বুঝতে, মনে রাখতে এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জন করতে পারে।

আপনি যদি ক্লাস টেস্ট, ইউনিট টেস্ট, বার্ষিক পরীক্ষা অথবা AHSEC HS Final Examination-এর প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তাহলে এই অধ্যায়ের নোটস ও প্রশ্নোত্তর আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।

✨ এই অধ্যায়ে আপনি পাবেন:

  • 📘 সহজ ও পরিষ্কার অধ্যায়ভিত্তিক নোটস
  • ❓ সম্পূর্ণ পাঠ্যপুস্তকের প্রশ্নোত্তর
  • ⭐ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামুখী প্রশ্ন
  • 📝 সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
  • 📚 দ্রুত রিভিশনের জন্য সংক্ষিপ্ত নোটস
  • 🎯 AHSEC HS পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

আঞ্চলিক আকাঙক্ষা ও সংঘাত

নির্বাচিত প্রশ্নোত্তর (Selected Questions-Answers)

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ১)

(a) ‘অসম আন্দোলন’ (Assam Movement) কবে শুরু হয়?

উঃ ১৯৭৯ সালে।

(b) গোয়া (Goa) কোন সালে ভারতের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য (constituent state) হয়?

উঃ ১৯৮৭ সালে।

(c) নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল (Naga National Council)-এর নেতা কে ছিলেন?

উঃ এ. জেড. ফিজো (A. Z. Phizo)।

(d) ‘আনন্দপুর সাহিব প্রস্তাব’ (Anandpur Sahib Resolution) কবে গৃহীত হয়?

উঃ ১৯৭৩ সালে।

(e) হরি সিং (Hari Singh) কে ছিলেন?

উঃ ভারতের স্বাধীনতার সময় তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের শাসক ছিলেন।

(f) ভারতীয় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জম্মু ও কাশ্মীরের উল্লেখ রয়েছে?

উঃ অনুচ্ছেদ ৩৭০ (Article 370)1

(g) পাঞ্জাবের ‘আকালি দল’ (Akali Dal) কোন সালে গঠিত হয়?

উঃ ১৯২০ সালে।

(h) লালডেঙ্গা (Laldenga) কে ছিলেন?

উঃ লালডেঙ্গা মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (Mizo National Front)-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

(i) ভারতীয় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছিল? H.S. ’16

উঃ অনুচ্ছেদ ৩৭০ (Article 370)1

(j) ভারত সরকার ‘অপারেশন বন্ধু স্টার’ (Operation Blue Star) কবে পরিচালনা করে?

উঃ ১৯৮৪ সালে।

(k) সিকিমে (Sikkim) প্রথম বিধানসভা নির্বাচন (Legislative Assembly election) কবে অনুষ্ঠিত হয়?

উঃ ১৯৭৪ সালে।

(l) সিকিম (Sikkim) কবে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়?

উঃ ১৯৭৫ সালে।

(m) AASU-এর পূর্ণরূপ কী?

উঃ অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (All Assam Students’ Union) |

(n) ন্যাশনাল কনফারেন্স (National Conference) কবে গঠিত হয়?

উঃ ১৯৩২ সালে।

(০) ‘তেলুগু দেশম’ (Telugu Desam)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে ছিলেন?

উঃ এন. টি. রামা রাও (N. T. Rama Rao)1

(p) নাগাল্যান্ড (Nagaland) কোন সালে রাজ্য হিসেবে গঠিত হয়?

উঃ ১৯৬৩ সালে।

Note: ১৯৬০ সালটি ১৬ দফা চুক্তির (16-Point Agreement) বছর, রাজ্য গঠনের নয়।

(q) আঞ্চলিকতাবাদের (regionalism) উত্থানের একটি কারণ উল্লেখ করো।

উঃ অর্থনৈতিক বৈষম্য (Economic disparity) |

(r) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পুনর্গঠন (reorganization) কোন সালে সম্পন্ন হয়?

উঃ ১৯৮৭ সালে।

(s) সিকিম (Sikkim) ভারতের তম রাজ্য। (শূন্যস্থান পূরণ করো)

উঃ ২২তম (22nd)|

(t) MNF-এর পূর্ণরূপ কী?

উঃ মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (Mizo National Front) |

(u) MGP-এর পূর্ণরূপ কী?

উঃ মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি (Maharashtrawadi Gomantak Party)|

(v) ‘পাঞ্জাবি সুবা’ (Punjabi Suba) গঠনের আন্দোলন কবে শুরু হয়?

উঃ ১৯৬০ সালে।

(w) ‘পাঞ্জাব চুক্তি’ (Punjab Accord) কবে স্বাক্ষরিত হয়?

উঃ ১৯৮৫ সালে।

(x) ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) কবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন?

উঃ ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪।

(y) ১৯৬১ সালের আগে গোয়া (Goa) কার শাসনের অধীনে ছিল?

উঃ পর্তুগিজদের (Portuguese) অধীনে।

(z) ‘অসম চুক্তি’ (Assam Accord) কবে স্বাক্ষরিত হয়? H.S. ’20

উঃ ১৯৮৫ সালে।

(aa) ভারতের কোনো রাজ্যে গঠিত প্রথম আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নাম লেখো। H.S. ’16

উঃ ডি.এম.কে. (D.M.K. – Dravida Munnetra Kazhagam) |

(ab) NFA-এর পূর্ণরূপ কী?

উঃ নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি (North-East Frontier Agency) |

(ac) শিমলা চুক্তি (Shimla Agreement) ভারত ও – এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

(শূন্যস্থান পূরণ করো) H.S. ’16

উঃ পাকিস্তান (Pakistan) |

(ad) প্রথম নন-অ্যালাইন্ড সম্মেলন (Non-Aligned Summit) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়? H.S.’20

উঃ বেলগ্রেড (Belgrade)-এ।

(ae) ‘NEDA’-এর পূর্ণরূপ লেখো। H.S. ’20

উঃ নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (North East Democratic Alliance) |

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ২)

(a) ‘অপারেশন ব্‌লু স্টার’ (Operation Blue Star) কী?

উঃ ‘অপারেশন ব্‌লু স্টার’ হলো ১৯৮৪ সালের জুন মাসে ভারত সরকার পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান, যা আকালি দলের (Akali Dal) কিছু নেতার নেতৃত্বে খালিস্তান (Khalistan) নামে পৃথক শিখ রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে পরিচালিত সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। এই আন্দোলনের কর্মীরা অমৃতসরের (Amritsar) স্বর্ণ মন্দিরে (Golden Temple) আশ্রয় নিয়েছিল। এই অভিযানে মন্দিরের কিছু ক্ষতি হয় এবং বহু আকালি নেতা গ্রেফতার হন।

(b) ‘অসম চুক্তি’ (Assam Accord) কবে এবং কার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?

উঃ ‘অসম চুক্তি’ ১৯৮৫ সালের আগস্ট মাসে ভারত সরকার এবং অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (All Assam Students’ Union)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

(c) অসম আন্দোলনের দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো।

উঃ

১. বিদেশি অনুপ্রবেশ (Foreign infiltration)|

২. অর্থনৈতিক বৈষম্য (Economic disparity) |

(d) ‘আঞ্চলিকতাবাদ’ (Regionalism) বলতে কী বোঝায়?

উঃ আঞ্চলিকতাবাদ বলতে এমন একটি সংকীর্ণ আঞ্চলিক মনোভাবকে বোঝায়, যেখানে একটি অঞ্চলের মানুষ নিজেদের আঞ্চলিক স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের উপরে স্থান দেয়।

(e) সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের (Article 370) গুরুত্ব কী?

উঃ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছিল। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই রাজ্য অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অধিক স্বায়ত্তশাসন (autonomy) ভোগ করত এবং এর নিজস্ব সংবিধান ছিল। ভারতীয় সংবিধানের সমস্ত বিধান এই রাজ্যে প্রযোজ্য ছিল না।

Note: ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে; বর্তমানে এই বিশেষ মর্যাদা আর বলবৎ নেই।

(f) ‘সেভেন সিস্টার্স’ (Seven Sisters) বলতে কী বোঝায়?

উঃ ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলতে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য-অসম, মণিপুর, ত্রিপুরা, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ডকে একত্রে বোঝায়।

(g) ভারতের চারটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নাম লেখো। H.S. ’15, ’17

উঃ

১. অসম গণ পরিষদ (Asom Gana Parishad),

২. আকালি দল (Akali Dal),

৩. ডি.এম.কে. (D.M.Κ.),

৪. তেলুগু দেশম পার্টি (Telugu Desam Party) 1

(h) ভারতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব বৃদ্ধির দুটি কারণ লেখো। H.S. ’14, ’15, ’17, ’19

অথবা

ভারতে আঞ্চলিকতাবাদের উত্থানের দুটি কারণ লেখো। H.S. 13, 16

উঃ

১. আঞ্চলিক আকাঙক্ষা (Regional aspirations) |

২. আঞ্চলিক সমস্যার প্রতি জাতীয় দলগুলির উদাসীনতা (Indifference of national parties) |

(i) ভারতীয় সংবিধানের কোন দুটি অনুচ্ছেদ জম্মু ও কাশ্মীরকে অধিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করেছিল? H.S. ’15

উঃ অনুচ্ছেদ ৩৭০ (Article 370) এবং ৩৭১ (Article 371)।

Note: অনুচ্ছেদ ৩৭১ মূলত অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যের জন্য বিশেষ বিধান প্রদান করে; জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধান অনুচ্ছেদ ছিল ৩৭০।

(ⅰ) উত্তর-পূর্ব ভারতে আঞ্চলিক আন্দোলনের সূচনার দুটি কারণ উল্লেখ করো।

উঃ

১. উত্তর-পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক সমস্যাগুলির সমাধানে কেন্দ্র সরকারের অবহেলা।

২. নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের আকাঙ্ক্ষা।

মধ্যম দৈর্ঘ্যের প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ৪)

(a) ‘আনন্দপুর সাহিব প্রস্তাব’ (Anandpur Sahib Resolution) কী? এর উদ্দেশ্যগুলি আলোচনা করো। H.S. ’17

উঃ ১১ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে আকালি দল (Akali Dal) একটি ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে, যা রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং দলের নীতি ও কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। পর্যালোচনার পর কমিটি একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে, যা ‘আনন্দপুর সাহিব প্রস্তাব’ (Anandpur Sahib Resolution) নামে পরিচিত। এতে আকালি দলের প্রধান নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই প্রস্তাবের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল-

১. চণ্ডীগড় (Chandigarh)-কে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (Union Territory) থেকে পাঞ্জাবের হাতে হস্তান্তর করা।

২. পাঞ্জাবি ভাষাভাষী ও পাঞ্জাবি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিকে পাঞ্জাবের সঙ্গে একীভূত করা।

৩. কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে সংবিধানের অধীনে রাজ্যগুলিতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ (decentralization) নিশ্চিত করা।

৪. ভূমি সংস্কার (land reforms) ও শিল্পায়নের মাধ্যমে দুর্বল শ্রেণির অধিকার রক্ষা করা।

৫. সর্বভারতীয় গুরুদ্বারা আইন (All-India Gurdwara Act) প্রণয়ন করা।

৬. পাঞ্জাবের বাইরে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা প্রদান করা।

৭. সশস্ত্র বাহিনীতে শিখদের জন্য সংরক্ষিত পদ সম্পর্কিত নিয়োগ নীতির পুনর্বিবেচনা করা।

(b) রাজীব গান্ধী-লংওয়াল চুক্তি (Rajiv Gandhi-Longowal Accord) কী? এর প্রধান শর্তগুলি লেখো।

উঃ ২৪ জুলাই ১৯৮৫ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী (Rajiv Gandhi) এবং আকালি দলের সভাপতি হরচন্দ সিং লংওয়াল (Harchand Singh Longowal)-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা রাজীব গান্ধী-লংওয়াল চুক্তি’ বা ‘পাঞ্জাব চুক্তি’ (Punjab Accord) নামে পরিচিত।

এর প্রধান শর্তগুলি ছিল-

১. চণ্ডীগড়কে পাঞ্জাবের হাতে হস্তান্তর করা।

২. পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ মেটাতে একটি কমিশন গঠন করা।

৩. রাভি-বেয়াস (Ravi-Beas) নদীর জল বণ্টন নির্ধারণের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা।

৪. পাঞ্জাবে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (Armed Forces Special Powers Act) প্রত্যাহার করা।

৫. সন্ত্রাসবাদের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উন্নত সুবিধা প্রদান করা।

(c) আঞ্চলিকতাবাদের দাবি কীভাবে ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ (unity in diversity) প্রতিফলিত করে? আলোচনা করো।

উঃ বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আঞ্চলিকতাবাদের দাবিগুলি এই বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে।

১. আঞ্চলিক আকাঙক্ষা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অংশ। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র; তাই একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রে আঞ্চলিক দাবিগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

২. আঞ্চলিক দাবির সমাধান গণতান্ত্রিক সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত; জোরপূর্বক দমন জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর।

৩. ক্ষমতার ভাগাভাগির মাধ্যমে আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যায়। জাতীয় উন্নয়নে প্রতিটি অঞ্চলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. অর্থনৈতিক বৈষম্য আঞ্চলিক অসাম্য সৃষ্টি করতে পারে; তাই সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া উচিত।

(d) ‘অসম গণ পরিষদ’ (Asom Gana Parishad) গঠনের মূল উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল?

উঃ ১৯৮৫ সালে অসমে ‘অসম গণ পরিষদ’ (Asom Gana Parishad) নামে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।

এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল-

১. অসমে বিদেশি অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।

২. অসমে বসবাসকারী বিদেশিদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা।

৩. অসমীয়া জনগণের অস্তিত্ব রক্ষা করা।

৪. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজ্যের সমান গুরুত্ব নিশ্চিত করা।

৫. ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর দুটি নতুন সেতু নির্মাণ করা।

৬. দুটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি সর্বভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা।

৭. একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (Kalakshetra) প্রতিষ্ঠা করা।

৮. বাংলাদেশ ও অসমের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা।

(e) কাশ্মীর সমস্যা (Kashmir problem) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত নোট লেখো। H.S. ’17

উঃ ভারতের স্বাধীনতার সময় কাশ্মীর একটি দেশীয় রাজ্য (princely state) ছিল। পাকিস্তানের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহারাজা হরি সিং (Maharaja Hari Singh) ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির চুক্তি (Instrument of Accession) স্বাক্ষর করেন।

এরপর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর প্রশ্নে বিরোধ চলতে থাকে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ এবং ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ (Kargil War) এই বিরোধের উদাহরণ। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কাশ্মীরের একটি অংশ দখল করে (বর্তমানে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নামে পরিচিত)।

পাকিস্তানের মদতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগও রয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ভারত বহুবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছে, তবুও সমস্যা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।

(f) ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’ (Narmada Bachao Andolan) সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। এটি কি যুক্তিসঙ্গত বলে তুমি মনে করো? কারণ দাও।

উঃ ১৯৮০-এর দশকে মধ্য ভারতের নর্মদা উপত্যকায় (Narmada Valley) এক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল নর্মদা নদীর উপর একাধিক বাঁধ নির্মাণ। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব উপলব্ধি করে স্থানীয় মানুষ ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’ (Narmada Bachao Andolan) গড়ে তোলে।

এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মেধা পাটকর (Medha Patkar) এবং পরে অরুন্ধতী রায় (Arundhati Roy) এতে যোগ দেন। সমর্থকদের মতে প্রকল্পটি বিভিন্ন রাজ্যের উন্নয়নে সহায়ক হবে, কিন্তু বিরোধীদের মতে এটি পরিবেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

আন্দোলনকারীরা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান এবং জল, জমি ও বনসম্পদের উপর স্থানীয় অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেন। এই আন্দোলন যুক্তিসঙ্গত, কারণ এটি পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষার জন্য পরিচালিত হয়েছিল।

(g) উত্তর-পূর্ব ভারতে স্বায়ত্তশাসনের দাবি (autonomy) সম্পর্কে আলোচনা করো। H.S. 20

অথবা

উত্তর-পূর্ব ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলি আলোচনা করো। H.S. ’18, ’19

উঃ স্বাধীনতার পর উত্তর-পূর্ব ভারতে স্বায়ত্তশাসনের দাবি ওঠে। প্রায় প্রতিটি রাজ্যে আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার মূল দাবি ছিল স্বশাসন (self-governance) |
স্বাধীনতার সময় মণিপুর ও ত্রিপুরা ছাড়া অন্যান্য রাজ্য বৃহত্তর অসমের অংশ ছিল। অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

এর ফলে বিভিন্ন রাজ্য আলাদাভাবে গঠিত হয়-

মেঘালয় (Meghalaya) ১৯৭২ সালে, নাগাল্যান্ড (Nagaland) ১৯৬৩ সালে এবং মিজোরাম (Mizoram) ১৯৮৭ সালে গঠিত হয়।

বর্তমানে অসমে বডো, কারবি, কোচ, দিমাসা ও কোচ রাজবংশী সম্প্রদায় পৃথক রাজ্যের দাবি জানাচ্ছে।

(h) ভারতীয় দলীয় ব্যবস্থায় দলত্যাগ (defection) সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো। H.S. ’19

উঃ ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অন্য কারণে নিজের দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়াকে দলত্যাগ (defection) বলা হয়।

১৯৬৭ সালের পর থেকে এটি ভারতীয় রাজনীতিতে একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। একে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘আয়া রাম, গয়া রাম’ বলা হয়। এটি রাজনৈতিক নৈতিকতা ক্ষুণ্ণ করে এবং দলীয় ঐক্য নষ্ট করে। তাই দলত্যাগ রোধে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

(i) ভারতে সাম্প্রদায়িকতা (communalism) প্রতিরোধে দুটি পরামর্শ দাও। H.S. ’19

উঃ

১. সকল সম্প্রদায়ের সমান উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া উচিত।

২. সাম্প্রদায়িকতা প্রচারকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

প্রবন্ধধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ৬)

(a) আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের উত্থানের কারণগুলি আলোচনা করো। H.S. ’20

উঃ ভারতে শক্তিশালী জাতীয় দলের পাশাপাশি বহু আঞ্চলিক দলও গড়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণগুলি হলো-

১. কেন্দ্র সরকারের অবহেলা: সব রাজ্যের প্রতি সমান গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে আঞ্চলিক দল গঠিত হয়।

২. ধর্মীয় কারণ: ধর্মভিত্তিক ঐক্য আঞ্চলিক দলের জন্ম দিতে পারে।

৩. ভাষাগত কারণ: ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ থেকে আঞ্চলিক দল গড়ে ওঠে।

৪. রাজনৈতিক উচ্চাকাঙক্ষা: জাতীয় দলে গুরুত্ব না পেয়ে অনেক নেতা আঞ্চলিক দল গঠন করেন।

৫. সমস্যার সমাধানে বিলম্ব: আঞ্চলিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য আঞ্চলিক দল গড়ে ওঠে।

৬. ভৌগোলিক বৈচিত্র্য: বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষার জন্য আঞ্চলিক দল গড়ে ওঠে।

(b) আঞ্চলিকতাবাদ সমস্যা সমাধানের জন্য করণীয়গুলি উল্লেখ করো।

উঃ আঞ্চলিকতাবাদ ভারতের ঐক্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সমাধানের উপায়গুলি হলো-

১. সঠিক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করা।

২. সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া।

৩. সীমান্ত অঞ্চলের প্রতি অবহেলা ও দমনমূলক নীতি পরিহার করা।

৪. আঞ্চলিক সমস্যার দ্রুত সমাধান করা।

৫. বৈচিত্র্যকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

৬. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে অধিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা।

Rabbi Masrur

A Thinker, Writer & Speaker.

 

Leave a Comment