Class 12 Political Science Chapter 14 কংগ্রেস ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা
আপনি যদি Class 12 Political Science Chapter 14 কংগ্রেস ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা (Bengali Medium)-এর সহজ ও নির্ভরযোগ্য প্রশ্নোত্তর খুঁজছেন, তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই অধ্যায়টি দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং AHSEC Higher Secondary Examination-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই অধ্যায়ে আপনি কংগ্রেস ব্যবস্থার দুর্বল হওয়ার কারণ, ১৯৬৭ সালের সাধারণ নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিবর্তন, কংগ্রেস দলের বিভাজন, ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্ব, ১৯৭১ সালের নির্বাচন, ‘গরিবি হটাও’ কর্মসূচি এবং কংগ্রেসের পুনরুত্থান সম্পর্কে সহজ ভাষায় জানতে পারবেন। এছাড়াও, এই সময়ে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী দলগুলির ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবর্তন সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
এখানে দেওয়া Question Answer এবং Notes সহজ, পরিষ্কার এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব ভাষায় প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি উত্তর সর্বশেষ AHSEC পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে বিষয়টি বুঝতে, মনে রাখতে এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জন করতে পারে।
আপনি যদি ক্লাস টেস্ট, ইউনিট টেস্ট, বার্ষিক পরীক্ষা অথবা AHSEC HS Final Examination-এর প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তাহলে এই অধ্যায়ের নোটস ও প্রশ্নোত্তর আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।
✨ এই অধ্যায়ে আপনি পাবেন:
- 📘 সহজ ও পরিষ্কার অধ্যায়ভিত্তিক নোটস
- ❓ সম্পূর্ণ পাঠ্যপুস্তকের প্রশ্নোত্তর
- ⭐ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামুখী প্রশ্ন
- 📝 সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
- 📚 দ্রুত রিভিশনের জন্য সংক্ষিপ্ত নোটস
- 🎯 AHSEC HS পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
কংগ্রেস ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা
নির্বাচিত প্রশ্নোত্তর (Selected Questions-Answers)
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান-১)
(a) ‘আয়া রাম, গয়া রাম’ (Aya Ram, Gaya Ram) উক্তিটি কোন অঞ্চলের বিধায়কের (MLA) সঙ্গে সম্পর্কিত?
উঃ হরিয়ানা (Haryana) |
(b) ভারতে জোট ব্যবস্থা (coalition system) কবে থেকে শুরু হয়?
উঃ ১৯৬৭ সাল থেকে।
(c) চতুর্থ সাধারণ নির্বাচন (Fourth General Election) কবে অনুষ্ঠিত হয়?
উঃ ১৯৬৭ সালে।
(d) ১৯৬৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে লোকসভায় (Lok Sabha) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress) কতটি আসন লাভ করে?
উঃ ২৮৩টি আসন।
(e) ‘দলত্যাগ’ (defection) বলতে কী বোঝায়? H.S. ’14
উঃ যখন কোনো নির্বাচিত সদস্য একটি দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন বা নতুন দল গঠন করেন, তখন তাকে দলত্যাগ বলা হয়।
(f) ভারতে কোন দশককে ‘বিপজ্জনক দশক’ (dangerous decade) বলা হয়? H.S. ’12
উঃ ১৯৬০-এর দশক।
(g) লাল বাহাদুর শাস্ত্রী (Lal Bahadur Shastri) কোন রাজ্যের অধিবাসী ছিলেন?
উঃ উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh) |
(h) লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর পর কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন?
উঃ মিসেস ইন্দিরা গান্ধী (Mrs. Indira Gandhi)।
(i) DMK-এর পূর্ণরূপ কী?
উঃ দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (Dravida Munnetra Kazhagam) |
(j) SVD-এর পূর্ণরূপ কী?
উঃ সংযুক্ত বিধায়ক দল (Sanyukt Vidhayak Dal)1
(k) ভারতের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ইতিহাসে কোন বছরটিকে একটি মাইলফলক বছর হিসেবে ধরা হয়?
উঃ ১৯৬৭ সাল।
(l) ‘সিন্ডিকেট’ (Syndicate) বলতে কী বোঝায়?
উঃ ‘সিন্ডিকেট’ বলতে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়।
(m) লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। (শূন্যস্থান পূরণ করো)
উঃ দ্বিতীয় (Second) |
(n) ‘গরিবি হটাও’ (Garibi Hatao) স্লোগানটি কোন দলের ছিল?
উঃ কংগ্রেস দল (Congress Party) |
(০) ‘জয় জওয়ান, জয় কিসান’ (Jai Jawan, Jai Kisan) স্লোগানটি কে দিয়েছিলেন?
উঃ লাল বাহাদুর শাস্ত্রী (Lal Bahadur Shastri) |
(p) কংগ্রেস সিন্ডিকেটের (Congress Syndicate) নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
উঃ কে. কামারাজ (K. Kamaraj)।
(৭) ‘দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম’ (Dravida Munnetra Kazhagam) কোন রাজ্যের আঞ্চলিক দল?
উঃ তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) |
(r) ‘ইন্দিরা হটাও’ (Indira Hatao) স্লোগানটি কে দিয়েছিলেন?
উঃ ১৯৭১ সালে কংগ্রেস সভাপতি এস. নিজালিঙ্গাপ্পা (S. Nijalingappa) বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে এই স্লোগান দেন।
(5) দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) কোন সালে প্রণীত হয়?
উঃ ১৯৮৫ সালে।
(t) ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উঃ মিসেস ইন্দিরা গান্ধী (Mrs. Indira Gandhi) |
(u) ভারতের প্রথম নির্বাচন কমিশনার (Election Commissioner) কে ছিলেন? H.S. ’15
উঃ সুকুমার সেন (Sukumar Sen)1
(v) কেন্দ্রে জোট সরকার (coalition government) কোন সাল থেকে শুরু হয়? H.S. ’14
উঃ ১৯৭৭ সাল থেকে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ২)
(a) জোট সরকার (coalition government) বলতে কী বোঝায়?
উঃ নির্বাচনের পর যদি কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তবে দুই বা ততোধিক রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে যৌথভাবে নেতা নির্বাচন করে সরকার গঠন করে; এই ধরনের সরকারকে জোট সরকার বলা হয়।
(b) ভারতীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ (political earthquake) বলতে কী বোঝায়?
উঃ ১৯৬৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস মাত্র ২৮৩টি আসন লাভ করে। এই নির্বাচনে এটি সাতটি রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং দুটি রাজ্যে দলত্যাগের কারণে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) মন্ত্রিসভার অর্ধেকের বেশি সদস্য পরাজিত হন। তাই এই নির্বাচনকে ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ বলা হয়।
(c) ‘অ-কংগ্রেসবাদ’ (Non-Congressism) বলতে কী বোঝায়?
উঃ ১৯৬৭ সালের নির্বাচনের সময় রাম মনোহর লোহিয়া (Ram Manohar Lohia) ‘অ-কংগ্রেসবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করেন, যা কংগ্রেস বিরোধী মতাদর্শকে নির্দেশ করে। ১৯৬২ সালের চীন যুদ্ধ, ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান যুদ্ধ, খাদ্য সংকট এবং অর্থনৈতিক সংকটের ফলে বিভিন্ন বিরোধী দল একত্রিত হয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচার চালায়। এই আন্দোলনকেই অ-কংগ্রেসবাদ বলা হয়।
(d) ‘হুইপ’ (Whip) শব্দটির ব্যাখ্যা করো।
উঃ রাজনীতিতে ‘হুইপ’ বলতে দলের নেতৃত্ব কর্তৃক আইনসভায় দলের সদস্যদের জন্য জারি করা একটি কঠোর নির্দেশকে বোঝায়। দলের প্রতিটি সদস্যের জন্য এই নির্দেশ পালন বাধ্যতামূলক।
(e) ‘আয়া রাম, গয়া রাম’ (Aya Ram, Gaya Ram) উক্তিটির উৎপত্তি কীভাবে হয়?
উঃ ‘আয়া রাম, গয়া রাম’ উক্তিটি ভারতীয় রাজনীতিতে খুবই জনপ্রিয়। এটি বিধায়কদের ঘন ঘন দল পরিবর্তনের ঘটনাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে হরিয়ানার গয়া রাম (Gaya Ram) নামক এক বিধায়ক নির্বাচনের পর ১৫ দিনের মধ্যে তিনবার দল পরিবর্তন করেন। তিনি প্রথমে কংগ্রেস থেকে ইউনাইটেড ফ্রন্টে (United Front) যান, পরে আবার কংগ্রেসে ফিরে আসেন এবং নয় ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় ইউনাইটেড ফ্রন্টে যোগ দেন। এই ঘটনার পর এক সাংবাদিক মন্তব্য করেন ‘আয়া রাম, গয়া রাম’।
(f) জোট সরকারের চারটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উঃ জোট সরকারের চারটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এটি একাধিক দলের সহযোগিতায় গঠিত হয়।
২. এর গঠনে আদর্শকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
৩. এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলি প্রায়শই সুযোগসন্ধানী হয়।
৪. সাধারণত এই সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
(g) ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর (Lal Bahadur Shastri) স্বল্প মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে ভারত যে দুটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল তা উল্লেখ করো। H.S. ’16, 18
উঃ
১. খরার (drought) কারণে খাদ্য সংকট।
২. ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ।
(h) ভারতীয় দলীয় ব্যবস্থার (party system) দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। H.S. ’16
উঃ
১. বহুদলীয় ব্যবস্থা (multi-party system) |
২. বিরোধী দলের (opposition party) ভূমিকা।
(i) ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) কবে গঠিত হয়? প্রথম নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন? H.S. ’17
উঃ ভারতের নির্বাচন কমিশন ২৫ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে গঠিত হয়। এর প্রথম নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সুকুমার সেন (Sukumar Sen) |
মধ্যম দৈর্ঘ্যের প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান-৪)
(a) জোট সরকারের (coalition government) উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
উঃ গিয়ান সিং রারেওয়ালা (Gyan Singh Rarewala)-এর নেতৃত্বে ১৯৫২ সালে পাতিয়ালা ও পূর্ব পাঞ্জাব স্টেটস ইউনিয়ন (Patiala and East Punjab States Union – PEPSU)-এ প্রথম জোট সরকার গঠিত হয়। ১৯৫৯ সালে হরেকৃষ্ণ মহতাব (Harekrushna Mahatab)-এর নেতৃত্বে ওড়িশায় দ্বিতীয় জোট সরকার গঠিত হয়। একইভাবে, ১৯৬৭ সালে ভারতের আটটি রাজ্যে জোট সরকার গঠিত হয়।
তবে জোট সরকারে বিভিন্ন মতাদর্শের দল একসঙ্গে কাজ করার ফলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এর ফলে স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন (mid-term elections) অনুষ্ঠিত করতে হয়। বর্তমানে জোট সরকার ভারতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
(b) ১৯৭০-এর দশকের প্রথমদিকে ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) সরকারের জনপ্রিয়তার কারণগুলি কী ছিল?
উঃ ১৯৭০-এর দশকের প্রথমদিকে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এর কারণগুলি হলো-
১. তিনি দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে নেতৃত্ব প্রদান করেন, ফলে জনগণের ব্যাপক সমর্থন পান।
২. তিনি ব্যাংক জাতীয়করণ (bank nationalisation) ও ভূমি সংস্কার (land reforms)-এর মতো বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা জনগণের সমর্থন পায়।
৩. ‘গরিবি হটাও’ (Garibi Hatao) স্লোগানের মাধ্যমে তিনি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে উদ্যোগ নেন, যা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।
৪. ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতের বিজয়ের ফলে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়।
(c) ১৯৬৭ সালের চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনের (Fourth General Election) ফলাফল আলোচনা করো।
উঃ ১৯৬৭ সালের নির্বাচন কংগ্রেস দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এর ফলাফল নিম্নরূপ-
১. এই সময় কংগ্রেস দলের মধ্যে বিভাজনের সূচনা হয় এবং কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়ে; ফলে বিরোধী দলগুলি তাদের সংগ্রাম জোরদার করে এবং কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দেয়। Note: ঐতিহাসিকভাবে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক বিভাজন ১৯৬৯ সালে ঘটে, ১৯৬৭ সালের আগে নয়।
২. নেহরুর মৃত্যুর পর কংগ্রেসে উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয়, ফলে নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
৩. বিভিন্ন বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার ফলে কংগ্রেসের প্রভাব হ্রাস পায়।
Note: জনতা পার্টি (Janata Party) আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়; ১৯৬৭ সালে বিভিন্ন বিরোধী দল একত্রিত হয়ে কংগ্রেসের বিরোধিতা করেছিল।
প্রবন্ধধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ৬)
(a) ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণগুলি আলোচনা করো। অথবা কংগ্রেসের পতনের কারণগুলি আলোচনা করো।
উঃ ১৯৬৭ সালের নির্বাচন কংগ্রেস দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ছিল। এই নির্বাচনে কংগ্রেস তাদের পূর্ববর্তী প্রভাব হারায় এবং বহু রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।
এর কারণগুলি হলো-
১. ১৯৬০-এর দশকে ভারতে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়, ফলে জনগণের মধ্যে কংগ্রেস বিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠে।
২. সেই সময় কংগ্রেস সরকার জনসাধারণের অসন্তোষকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি, ফলে বিভিন্ন আন্দোলনের সৃষ্টি হয়।
৩. কংগ্রেস দলের অভ্যন্তরে বিভাজনের সূচনা হয়, যার ফলে দল দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. নেহরুর মৃত্যুর পর উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয়, ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
৫. বিভিন্ন বিরোধী দল একত্রিত হয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে, ফলে কংগ্রেসের পতন ঘটে।
(b) ১৯৬৭ সালের সাধারণ নির্বাচন কীভাবে ভারতীয় রাজনীতির গতিশীলতা পরিবর্তন করেছিল? ব্যাখ্যা করো। H.S. ’13
উঃ ১৯৬৭ সালের সাধারণ নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতির গতিশীলতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress)-এর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
প্রথমবারের মতো কংগ্রেস জওহরলাল নেহরুর (Jawaharlal Nehru)-এর মতো একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতাকে ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এই নির্বাচনের ফলাফল কংগ্রেসের শক্ত ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয়। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় স্তরেই কংগ্রেস বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। যদিও এটি লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবুও ১৯৫২ সালের পর এটি সর্বনিম্ন আসন ও ভোটশেয়ার লাভ করে। কংগ্রেস ২৮৩টি আসন পায় এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় ৭৮টি আসন হারায়। স্বতন্ত্র পার্টি (Swatantra Party) ৪৪টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রিসভার অর্ধেকের বেশি সদস্য নির্বাচনে পরাজিত হন।
রাজ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কংগ্রেস বড় ধাক্কা খায়। এটি সাতটি রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং দুটি রাজ্যে দলত্যাগের কারণে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়। মাদ্রাজে (Madras) ডিএমকে (DMK) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। আরও আটটি রাজ্যে বিরোধী দলগুলি জোট সরকার গঠন করে।
এই ফলাফল থেকে ধারণা তৈরি হয় যে ভারতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের একাধিপত্য শেষ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি (Janata Party) কংগ্রেসকে পরাজিত করে কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। এইভাবে ১৯৬৭ সালের নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতির গতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।
(c) ১৯৬৯ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (Presidential Election) সংক্রান্ত বিতর্ক আলোচনা করো। H.S. ’16, ’20
উঃ ১৯৬৯ সালের ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সংক্ষেপে নিম্নরূপ-
১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রপতি জাকির হুসেন (Zakir Husain)-এর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন নিয়ে কংগ্রেসের সিন্ডিকেট (Syndicate) এবং মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রপতি পদের জন্য জগজীবন রাম (Jagjivan Ram)-এর নাম প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে সিন্ডিকেট এবং মোরারজি দেশাই (Morarji Desai) নীলম সঞ্জীব রেড্ডি (Neelam Sanjiva Reddy)-এর নাম প্রস্তাব করেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে ইন্দিরা গান্ধী বৈঠক ত্যাগ করেন।
পরে সিন্ডিকেট জগজীবন রামের নাম প্রত্যাখ্যান করলে ইন্দিরা গান্ধী তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি (V. V. Giri)-কে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানান। ভি. ভি. গিরি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এদিকে কংগ্রেস সভাপতি দলীয় হুইপ (whip) জারি করে সদস্যদের নীলম সঞ্জীব রেড্ডিকে ভোট দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী দলীয় সদস্যদের ‘বিবেকের ভোট’ (conscience vote) দেওয়ার আহ্বান জানান।
শেষ পর্যন্ত ভি. ভি. গিরি নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি হন।
